কেউ আমাকে বিশ্বাস করে না: এরশাদ

তার মতো নির্যাতিত রাজনীতিবিদ বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই বলে দাবি করেছেন করে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি-আওয়ামী তার মামলা ঝুলিয়ে রেখে এক দিনের জন্য শান্তি দেয়নি। তারা কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।

 

 

 

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় জাপার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে জাপার ডিজিটাল ক্যাম্পেইন নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

জীবনে শান্তি না পাওয়ার পেছনে তার বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলো কারণ বলে জানান সাবেক এই সেনাশাসক। তিনি বলেন, ‘জীবনে এক দিনও শান্তি ছিল না, এখনো মামলা ঝুলে আছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে পাঁচ হাজার মামলা উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছে, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ছয় হাজার মামলা উইথড্র করে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের হাজার হাজার মামলা তুলে নেয়া হয়েছে।’

কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা কেউ প্রত্যাহার করেনি, এমনকি একটা মামলাও শেষ হয়নি বলে জানান বর্তমান জোট সরকারের শরিক দলের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘কেন হয়নি জানেন? তারা আমাকে বিশ্বাস করে না। তারা জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়।’

এরশাদ ঘোষণা করেন, এবার কোনো দল বা জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা এককভাবে নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না। আমার বিশ্বাস সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে।’ ক্ষমতার পালাবদলের দীর্ঘ ২৭ বছর পার হলেও জনগণ এখনো জাতীয় পার্টিকে মনে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন জাপা প্রধান।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মানুষ জাতীয় পার্টির সঙ্গে আছে। কারণ আমাদের হাতে কোনো রক্তের দাগ নেই। আমরা ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করিনি। দুর্নীতি করিনি। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি।’

মানুষ এখন পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে জাপা-প্রধান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর প্রচারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। আমি নিশ্চিত এবার জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় যাবে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রামে-গঞ্জে, দেশের সর্বত্র আমাদের উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে হবে।’

ভোটচোরদের প্রতিহত করা হবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি কোনো রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্র দখল করতে বা ভোট চুরি করতে আসে তাহলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বিশেষ দূত। এরশাদ বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে জোর করে যেন কেউ ভোট দিতে না পারে সে জন্য আমাদের সুগঠিত বলিষ্ঠ কমিটি থাকবে।’

উৎসঃ ঢাকাটাইমস

অনির্বাচিত সরকারনড়িয়ার ব্যাপারে উদাসীন: ফখরুল

শরিয়তপুরের নড়িয়ায় ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে এখনও ত্রাণ তৎপরতায় সরকার নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নড়িয়া উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ দেয়ার দাবি করেছেন।

 

 

 

 

মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, শরীয়তপুর জেলাধীন নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ও ফসলি জমি ডুবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামের পর গ্রাম বাড়িঘর, স্থাপনা পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়ায় বন্যা উপদ্রত মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অথচ ভয়াবহ ভাঙনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। নেই কোনো জরুরি ত্রাণ তৎপরতা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে আছে, আর সেজন্যই জাতীয় দুর্যোগের সম্ভাবনায় আগাম ব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীন থাকে। নড়িয়া উপজেলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছলেও সরকারের নীরব ভূমিকা জনদুর্ভোগকে শোচনীয় পর্যায়ে উপনীত করেছে।
ফখরুল বলেন, নড়িয়ায় ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে গৃহহারা উপদ্রত মানুষ এখন চরম সংকটের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে এখনও পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরতায় সরকার নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আমি অবিলম্বে নড়িয়া উপজেলার বন্যা আক্রান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
একইসঙ্গে তিনি বিএনপির স্থানীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সংসদ ভেঙে দিতে হবে: জাফরুল্লাহ

‘দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

 

 

 

সংবিধানে রয়েছে, সংসদ রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। বঙ্গবন্ধু নিজেই সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিয়েছিলেন। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে।’ আজ মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা নগরের শহীদ হাদিস পার্কে যুক্তফ্রন্টের জনসভায় এ কথা বলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, অবাধ গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জনসভার আয়োজন করে যুক্তফ্রন্ট। সভায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বাস করে না। তাঁরা বঙ্গবন্ধুর নাম বিক্রি করে খায়। বঙ্গবন্ধু নিজেই সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিয়েছিলেন। সংবিধান হবে সংবিধানের মতো, আর সুষ্ঠু নির্বাচন হলো সংবিধানের অন্যতম শর্ত।’

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর। কিন্তু তিনি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন না। খুলনা জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ ফ ম মহসিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণফোরামের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা নগর সভাপতি লোকমান হাকিম, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

সভায় গণফোরামের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যাংক ডাকাতি হচ্ছে, কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। রাষ্ট্র আছে, সংবিধান আছে, কিন্তু তা পালনে সরকারের কোনো দায়িত্ব নেই।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আদালত আমাকে ডেকেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা জানতে। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। দ্রুত সময়ের মধ্যে সবার অংশগ্রহণে আবার নির্বাচন দেওয়া হবে। এ কথাটি আদালতে সংরক্ষিত আছে। যদি কেউ ভুলে গিয়ে থাকেন, তাহলে আদালতে গিয়ে দেখতে পারেন। কিন্তু পরবর্তী সময় ওই কথা ভুলে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক হচ্ছে জনগণ। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন রাজপথে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কেন ওই পথ থেকে সরে আসছেন?’ প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করেই নির্বাচনে আসতে হবে বলেও জানান তিনি। আর ইভিএমকে জাদুর খেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আবদুর রব। তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওই ঐক্যের মাধ্যমেই সব দলের অংশগ্রহণে সরকারকে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ইভিএমে কারচুপি হয় বলে সবাই জানে। বিশ্বের অনেক দেশ কোটি কোটি টাকা খরচ করে পরে ইভিএম-পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের মানুষের ভোটের প্রতি আস্থা নেই। এ কারণে তাঁরা যন্ত্রের সাহায্য নিতে যাচ্ছে।’

জাতিসংঘ-যুক্তরাষ্ট্র-লন্ডন ঘুরে লাভ নেই: হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাসেলস ও লন্ডন ঘুরে কোনো লাভ নেই।

 

 

বিদেশে দৌড়ঝাঁপ করে কোনো লাভ হবে না। আজ মঙ্গলবার গুলিস্তানের ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, সংবিধানের একচুলও ব্যত্যয় হবে না। ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো যে সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করে, তেমনি বাংলাদেশেও নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে নির্বাচিত সরকার। বাংলাদেশেও সংবিধানের আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচারী, পাকিস্তানিদের দোসর, এমনকি পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের ডেপুটি লিডার শাহ আজিজুর রহমানকে তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, তাদের সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তাঁর এ সমস্ত কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মবেশে পাকিস্তানের দোসর ছিলেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, পরবর্তীতে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে যারা এই দেশ এবং দেশের পতাকা চায়নি সেই মতিউর রহমান নিজামী এবং কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী বানিয়ে তাঁদের গাড়িতে লাল-সবুজের সবুজ পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এটি শুধু জাতির সঙ্গে প্রতারণা নয়, ফৌজদারি অপরাধেরও শামিল। বিএনপি তাদের সহিংসতার অভ্যাস এখনো অব্যাহত রেখেছে।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বিএনপির অনেক নেতা মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর পরবর্তী প্রজন্ম। বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতা আছেন যাঁদের পরিবার হয় মুসলিম লীগ, না হয় পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বনকারী বিভিন্ন দলের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা। আর কিছু আছেন সুযোগসন্ধানী। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. আসাদুজ্জানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা বলরাম পোদ্দারসহ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

উৎসঃ প্রথমআলো

ঢাবি-অ্যামেক্স কার্ড আনল সিটি ব্যাংক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জন্য আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড চালু করল দি সিটি ব্যাংক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে কো-ব্র্যান্ডেড এ কার্ড।

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আজ সোমবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ কার্ডের জন্য মাশুল দিতে হবে না। সাবেক শিক্ষার্থীরা এ কার্ড নিতে পারবেন। তাঁরা প্রথম বছর বিনা মাশুলে সেবা পেলেও পরের বছর থেকে মাশুল দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক সৎ, তাই এ কার্ডে ঝুঁকি কম। এ জন্য সুদহার কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের উন্নতি হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। এ জন্য আমাদের পাশে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন।’ সিটি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘ঢাবির সঙ্গে আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করলাম। সামনে আরও অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। ছাত্রদের জন্য বিশেষ সেবা আসবে।’

ব্যাংকের সেবা সম্প্রসারণের জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর হুসেইন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামাল, ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোয়েব, ভাইস চেয়ারম্যান তাবাসসুম কায়সার, অতিরিক্ত এমডি মাসরুর আরেফিন, অ্যামেক্সের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট দিব্যা জৈন প্রমুখ।

গৃহনির্মাণ ঋণের আবেদন অক্টোবরে

পাঁচ শতাংশ সরল সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য সরকারি কর্মচারীরা আগামী ১ অক্টোবর থেকেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

 

 

 

 

 

 

  • শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীরা এই ঋণ পাবেন
  • চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ পাবেন না
  • সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা

এর আগে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এমওইউ সই হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে গতকাল রোববার এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রমতে, আপাতত চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঠিক করা হলেও পরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও এই ঋণ বিতরণের বিষয়ে এমওইউ করার চিন্তা রয়েছে সরকারের।

তবে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলেও তা পাওয়া অত সহজ হবে না বলে আশঙ্কা সরকারি কর্মচারীদের। কারণ, আবেদনপত্রের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, বেতনের সনদ, সত্যায়িত ছবি, স্বাক্ষরসহ অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর চাকরি আছে—এমন সরকারি চাকরিজীবী বর্তমানে ৭ লাখ। তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশকে ঋণ দেওয়া হলেও বছরে আবেদনকারী দাঁড়াবে ৭০ হাজার জন। গড়ে প্রতিজনের ঋণ ৪০ লাখ টাকা ধরলেও বছরে ঋণের চাহিদা দাঁড়াবে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারকে বছরে এক হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থ বিভাগ ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা, ২০১৮’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ৩০ জুলাই। পরবর্তী দেড় মাসে তৈরি করা হয় ঋণ আবেদনের অভিন্ন ফরম। ঋণের জন্য আবেদনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ঠিক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতিমধ্যে এ–সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। এমওইউ সই হলেই ঋণ দিতে শুরু করব।’

ব্যক্তিগত জমি
ব্যক্তিগত জমির ওপর বাড়ি তৈরি করতে চাইলে ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির মূল মালিকানা দলিল জমা দিতে হবে। শুধু তা–ই নয়, মালিকানা পরম্পরার তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিএস, এসএ, আরএস এবং বিএস রেকর্ডের তথ্য। ব্রিটিশ আমলে ১৯৪০ সালে জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান তৈরি করা হয়েছিল, সেটি সিএস (কেথেড্রিয়াল সার্ভে)। এ দেশে জেলাভিত্তিক প্রথম নকশা ও ভূমি রেকর্ড করা হয় সিএসে।

সরকারি কর্মচারীদের এই ঋণ দিতে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। এসএ খতিয়ান (স্টেট একুইজিশন সার্ভে) করা হয় ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী। এটি হয় ১৯৫৬ থেকে ৬৩ সময়ে। এরপর বাংলাদেশ আমলে করা হয় আরএস (রিভিশনাল সার্ভে)। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণত আরএসের ওপর নির্ভর করা হয়। বিএস খতিয়ান বা সিটি জরিপ করা হয় ১৯৯৮–৯৯ সময়ে, যা এখনো চলমান। এ ছাড়া জেলা বা সাব–রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১২ বছরের নির্দায় সনদ নিতে হবে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল জমা রাখতে হবে।

সরকারি প্লট
সরকারি প্লট বা সরকার থেকে ইজারা নেওয়া জমিতেও বাড়ি তৈরি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্রথমেই জমা দিতে হবে প্লটের বরাদ্দপত্রের প্রমাণপত্র। এ ছাড়া দখল হস্তান্তরপত্র, মূল ইজারার দলিল ও বায়া দলিলের প্রমাণপত্র দিতে হবে। ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে আরও জমা দিতে হবে নামজারি খতিয়ানের জাবেদা নকল, খাজনা রসিদ ও আমমোক্তারনামা দলিল।

জমিতে ডেভেলপারকে দিয়ে বাড়ি তৈরি করলে জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশা ও ভারবহন সনদ জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ডেভেলপার কোম্পানির সংঘ স্মারক, সংঘবিধি ও রিহ্যাবের নিবন্ধন সনদ, নকশা অনুযায়ী কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অঙ্গীকারনামা, অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই—মর্মে ডেভেলপারের দেওয়া স্ট্যাম্প পেপারে ঘোষণাপত্রও থাকতে হবে।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা
সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর এবং চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা।

এই ঋণের বিপরীতে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে ৫ শতাংশ। এর ওপরে যে সুদ প্রযোজ্য, তা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ, অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া হবে না। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর। শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীরা এই ঋণ পাবেন, যাঁরা স্থায়ী পদে চাকরি করেন। তবে সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ এই ঋণ পাবেন না।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১৭৫১ ডলার

বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার।

 

 

এর মানে হলো, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা আয় করেন। তবে এটি কোনো ব্যক্তির আয় নয়। তবে মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক বা ব্যক্তিগত আয় নয়। এটি একটি দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু আয় বের করা হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের চূড়ান্ত তথ্য জানান। পরিকল্পনা কমিশনে এনইসির সম্মেলনকক্ষে একনেক সভা হয়।

চূড়ান্ত হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাজেটের আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছিল। এর ফলে পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করল বাংলাদেশ।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এর আগে বছরে (২০১৫-১৬) প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

কৃষি, শিল্প ও সেবা—এই তিনটি খাত ধরেই জিডিপি গণনা করা হয়। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে শিল্প খাতে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষি খাতে ৪ দশমিক ১৯ আর সেবা খাতে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। এখনো সরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিই চালিকা শক্তি।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, জিডিপি গণনাসহ পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি হালনাগাদ করতে পারলে আধুনিক উপায়ে জিডিপি গণনা করা যাবে।

জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ এখন ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর অংশ ছিল ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বর্তমানে জিডিপির আকার ২৭ হাজার ৪১১ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

২১ অগাস্ট মামলার রায় ১০ অক্টোবর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার নিম্নআদালতের বিচারকাজ শেষ। রায় ঘোষণা হবে ১০ অক্টোবর।

আজ মঙ্গলবার আইনি বিতর্ক শেষ হওয়ার মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করে রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি এই মামলায় জামিনে থাকা সাবেক ৩ আইজিপিসহ ৮ জনের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে তিনজন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাঁদেরকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পলাতক।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দের জেরা শেষ মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

ভারত থেকে তেল আনতে পাইপলাইন নির্মাণের উদ্বোধন

মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এছাড়া ভারতীয় ঋণের টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে।

‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের শিলিগুড়ির নুমালীগড় তেল শোধনাগার থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

এই পাইপলাইনের ১২৫ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে, আর ভারতের অংশে পড়েছে বাকি ৫ কিলোমিটার। ২২ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করা যাবে।

তবে পাইপ লাইন তৈরি হয়ে গেলে প্রাথমিকভাবে বছরে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ভারত থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা চার লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।

৫২০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের গ্রান্ড এইড প্রোগ্রামের আওতায় পাওয়া যাবে ৩০৩ কোটি রুপি। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বাপেক্স) ১৫০ কোটি টাকার যোগান

২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পাইপ লাইন হয়ে গেলে তেল আমদানিতে পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন খরচ হয় ৩ ডলারের মত। সেই তেল চট্টগ্রামে শোধন করে সড়কপথে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেল পরিবহনে খরচ হয় ব্যারেলপ্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার। ফলে পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ডলার।  আর ভারত থেকে পাইপলাইনে পরিশোধিত তেল এনে দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করতে পরিবহন ব্যয় হবে সাড়ে ৫ ডলারের মত।

২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে এই পাইপলাইন নির্মাণের আলোচনা শুরুর পর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গত বছরের অগাস্টে দুই দেশের সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন করলে নির্মাণ কাজ শুরুর প্রস্তুতি শুরু হয়।

কমিউনিটি ক্লিনিককে ট্রাস্টের আওতায় আনতে বি

মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট বিল- ২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেন।

পরে বিলটি একদিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

দেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এ ধরনের আরও এক হাজার ২৯টি ক্লিনিক বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা আছে।

এই ট্রাস্টের লক্ষ্য হবে- গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া।

বিলে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) জেলা সিভিল সার্জন, উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাথে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত আইনে কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্রাচুইটি এবং অবসর ভাতার সুবিধা রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, ট্রাস্টে সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি বিশেষ এখানে দান বা অনুদান করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া একটি বোর্ড থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ‘সামজহিতৈষী স্বনামধন্য’ ব্যক্তি হবেন এই বোর্ডের সভাপতি।

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব বোর্ডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকবেন।বোর্ডের সদস্য হবে ১৪ জন।

বাসস বিল উত্থাপন

এর আগে ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিল-২০১৮’  সংসদে তোলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনু। ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে বাসস পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশ সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় অধ্যাদেশ অনুসরণ করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী বাসস একটি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ১১ সদস্যের এই বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য থাকবেন, যার মেয়াদ হবে তিন বছর।

একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসসের নির্বাহী প্রধান হিসেবে কাজ করবেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে হলে সাংবাদিকতায় কমপক্ষে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।