একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের মনোনিত প্রার্থী হয়েছেন রংপুর ৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জনাব মোফাক্কারুল ইসলাম নবাব।

মাসুদ, রংপুরঃ বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে তিনি মনোনয়ন গ্রহন করেন।

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মধ্যে সমঝোতা হয়েছে ৯টি আসনে।

পরে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র তুলে দেয়া হয় নাগরিক ঐক্যের এক প্রতিনিধির হাতে।

রংপুর ৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ভোটারগন জনাব মোফাক্কারুল ইসলাম নবাব কে রংপুর ৫ (মিঠাপুকুর) আসনের জন্য পেয়ে নাগরিক ঐক্যের নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

জাপার মনোনয়ন ‘প্রায় চূড়ান্ত’, জানেন না বোর্ড সদস্যরা

তাদের একজন বলেছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যদের কোনো মতামত পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেননি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ১৫ সদস্যের এই পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছেন এরশাদ। অবশ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে গত ২০ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন, মনোনয়নর বিষয়ে তিনি এককভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করবে বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো রফার খবর এখনও আসেনি।

প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছি। কিছুদিনের মধ্যে আমরা তা প্রকাশ করব।”

কিন্তু পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলছেন, ওই তালিকা নিয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, “এই তালিকা নিয়ে আমি কিছু জানি না। তালিকা চূড়ান্ত করছেন (স্যার)। শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন এই তালিকায়, আমি জানি না।”

আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মনোনয়নের ওই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন দলের শীর্ষ চার নেতা। এ কাজে পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য বাবলা বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করে লাভ নেই। আমি কিছু জানি না।”

এরশাদ সম্প্রতি তার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতাদের লিয়াজোঁ কমিটির একটি বৈঠক করেন।  সে বৈঠকে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান জোট শরিক বিএনএর মুখপাত্র মোস্তাফিজুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “জাপা মহাজোটে গেলে আমরা কতটি আসন পাব, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।”

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবার ঢাকা-১৭, রংপুর-৩, সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জাতীয় পার্টি  জানিয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে এরশাদ এখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা না করে গোপনে অবস্থান করছেন বলে যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, তা ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, “স্যার এখন ভালো আছেন। নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করছেন।”

শরিকরা চায় ১২ আসন

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিকরা জাতীয় পার্টির কাছে ১২টি আসন দাবি করেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট.জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বাংলাদেশ জাতীয় জোট রয়েছে এরশাদের এই জোটে।

এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বিএনএ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। তারা জাতীয় প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন বলে এরশাদ এর আগে জানিয়েছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিস নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা  ৪০টি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এম এ মতিন নিজে চট্টগ্রাম -১১, ১২ ও ১৩ আসন থেকে নিজে তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম- ১৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, চাঁদপুর- ৫, ফেনী-১ আসনগুলোতে তারা মনোনয়ন চান বলে জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মতিন বলেন, “আমরা আশা করছি, জাতীয় পার্টি মহাজোটে গেলে আমরা তাদের কাছ থেকে পাঁচটি আসন পাব।

৩৪টি ইসলামিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় ইসলামী মহাজোটের মুখপাত্র মো. আসাদুজ্জামান জানান, তারা জাতীয় পার্টির পাঁচটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

ফেনী-৩, ফেনী-৪, নোয়াখালী-১, ঢাকা-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করা ইসলামী মহাজোট দুটি আসন পেলেই ‘সন্তুষ্ট’ থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান।

এদিকে বিএনএ‘র  মুখপাত্র মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তারা জাতীয় পার্টির কাছ থেকে পাঁচটি আসন দাবি করেছেন।

“নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের এই জোট। আসন না দিলে যে সিদ্ধান্ত নেব, তা ভোটের পর।”

‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’: আবু হত্যা প্রসঙ্গে কাদের

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবু হত্যার পেছনে দলীয় কোন্দল থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর শুক্রবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদেরের এমন মন্তব্য এল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “যশোরের কোন প্রার্থী, বুড়িগঙ্গা নদীতে লাশ, এর মানে তো ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। এটা ওদের নিজস্ব কোন্দলের কারণেও হতে পারে “

যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু (৫৮) ঢাকায় এসে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। সাক্ষাতকারের আগের দিন পল্টনের এক হোটেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন এবং বুধবার কেরানিগঞ্জে বুড়িগঙ্গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্বজনরা বলছেন, আবুকে অপহরণ করে তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এই বিএনপি নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের মদদে পরিকল্পিতভাবে’ হত্যা করা হয়েছে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে আগ্রহী যশোরের এই নেতাকে।

ওই অভিযোগ অস্বীকার করে কাদের বলেন, “কারও সঙ্গে কোন্দলের কারণে তারা উনাকে মারতে পারে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের কী স্বার্থ থাকতে পারে! যশোরের মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গায় কেন পাওয়া গেল- তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাদেরও তো অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছে। একজন সরে গেলে অন্যজনের জন্য সুবিধা হতেও পারে।”

সুষ্ঠু ভোট হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পাবে বলে যে দাবি দলটির নেতারা করে আসছেন, তাকে নিছকই ‘সংখ্যাতত্ত্বের’ খেলা হিসেবে দেখতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “আমরা ওভার ওল এটুকু বলতে পারি, হিসেবের অংকে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল ও জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তবে এসব কথা বলা উচিত নয়, এতে জনগণকে অসম্মান করা হয়। জনগণ আমাদের যত আসনে ভোট দেবে আমরা ততই পাব। আমরা কোনো সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস করতে চাই না। কে কত আসন পাবে দেশের জনগণই তা ঠিক করবে।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাদের বলেন, “এর আগে নির্বাচনে বিএনপি আমাদের ত্রিশ আসন দিয়েছিল, নিজেই পেয়েছিল ৩০ আসন। এবার তাদের কেউ কেউ আমাদের ১০ আসনও দিচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে সারা দেশে তাদের এই জোয়ার কিন্তু নেই। এই সাময়িক জোয়ারে ক্ষমতার রঙ্গিন খোয়াব যদি বিএনপি নেতারা দেখেন, তাহলে ৩০ ডিসেম্বর টের পাবেন।’’

নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাদের হয়রানির অভিযোগও অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগ সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের।

বিএনপি নেতা রিজভীর দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন “নয়াপল্টনে তাদের একজন আবাসিক প্রতিনিধি রয়েছে। এ ধরনের আজগুবি অভিযোগ তিনি করেন। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার প্রডাকশনের জন্য। জনমত পক্ষে না থাকলে প্রশাসন ও এস্টাব্লিশমেন্ট দিয়ে কোনো মেকানিজম কাজ করবে না।”

শরীকদের সঙ্গে আসন ভাগ নিয়ে জটিলতা হচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, দরকষাকষি হলেও কোনো ধরনের টানাপড়েন নেই।

“এখানে বানরের পিঠা ভাগ করে তো লাভ নেই। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। এখানে কে কত সিটে জিততে পারবে, এটাই হল আমাদের প্রাইম কনসিডারেশন। যারা ইলেক্টেবল, উইনেবল, তাদেরই আমরা সিলেক্ট করব।”

জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মৌখিকভাবে হয়েছে। যখন ঘোষণা হয়ে যাবে, তখন তো আপনারা পেয়ে যাবেন।”

শরীকদের কত আসন দেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে আভাস চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমি একটা অনুমান করতে পারি। আমি বার-বার বলেছি প্রার্থীকে ইলেক্টেবল হতে হবে, ইউনেবল হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ৬৫-৭০ এর জায়গায় ২/৪টা বাড়তেও পারে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাধিক আসনে নির্বাচন করার কোনো চিন্তা আছে কি না- এ প্রশ্নে কাদের বলেন, “এক আসনের বেশি নির্বাচন করার যোগ্যতা আমার নেই।”

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন

সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে ভোটের বিচারে নির্ণায়ক কোনো শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে না পারলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে বাম দলগুলো।

বাম গণতান্ত্রিক জোট গড়ে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া দলগুলোর নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে নয়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে তারা অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-খালেকুজ্জামান)সহ মোট আটটি দল এই জোটে থাকলেও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে তিনটির।

বামফ্রন্ট থেকে রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ কয়েকটি দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দেওয়ার পর সম্প্রতি সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে অন্য কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বাম গণতান্ত্রিক জোট।

১৯৯১ সালের পর এই দলগুলোর কোনোটি সংসদে কোনো আসন পায়নি। নবম সংসদ নির্বাচনে সিপিবি ও বাসদের ভোট ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ করে।

বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থাকলেও জোট-মহাজোটের ডামাডোলে ভোটের রাজনীতিতে বাম দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনি।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটা অবাধ নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সেই দাবিগুলো উত্থাপন করে আমরা সংগ্রাম করে আসছি। নানা নির্যাতন উপেক্ষা করে আমরা এই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছি।

“দেখা গেল যে, সরকার আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বিনা চ্যালেঞ্জে আমরা এটা দিতে পারি না। সেই জন্য আমরা সংগ্রামের কৌশল হিসেবে দাবি ও আন্দোলন অক্ষুন্ন রেখে নির্বাচনের সংগ্রামের পথে যাচ্ছি।”

দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে একের প্রতি অন্যের আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ টাকার খেলা, পেশীশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, প্রশাসনিক কারসাজিনির্ভর বিদ্যমান গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে তুলেছিল বাম জোট।

কিন্তু তার কোনোটিই পূরণ হয়নি।

সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, “আওয়ামী লীগ-বিএনপি মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। তারা মানুষকে ধারণা দিয়েছে যে তাদের ভেতরকার দ্বন্দ্বই সমাজের দ্বন্দ্ব। কিন্তু আসল দ্বন্দ্ব হল সমাজের এক শতাংশ লুটেরা গোষ্ঠীর সঙ্গে ৯৯ শতাংশ জনগণের স্বার্থের দ্বন্দ্ব।

“দুই দলের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়লে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে না। বাম গণতান্ত্রিক জোট সবসময় ৯৯ শতাংশ মানুষের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।”

নির্বাচনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের জোট শক্তিশালী করাও লক্ষ্য বলে জানালেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন “গত দুই বছর ধরে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি, এর ফলাফল এই জোট। আমাদের বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচন এই জোটকে আরও শক্তিশালী করবে।”

বাম জোটে সিপিবি-বাসদ ছাড়াও রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন। এর মধ্যে সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিবন্ধন রয়েছে।

বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বাম দলগুলো, যা নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ বিষয়ে বাম জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের ও তাদের (বিএনপি-জামায়াত) মধ্যে মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আর জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কারা সবসময় রাজপথে থাকে, মানুষের পাশে থাকে, তা সবাই জানে।”

বাম জোটের নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বাচনকে আমরা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখি না। এটা আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের অংশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠক তৈরির অন্যতম সুযোগ।”

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিপিবির মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ১৪-১৮ নভেম্বর।

এই সময়সীমার মধ্যে শতাধিক নেতা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানান প্রিন্স।

বাসদের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয় ১৬ নভেম্বর থেকে। প্রায় ১০০ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বলে জানান দলটির নেতারা।

প্রার্থিতার বিষয়ে প্রিন্স বলেন, “আমরা মনোনয়ন ফরম বিতরণের ক্ষেত্রে তাদেরকেই প্রাধান্য দিচ্ছি, যাদের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার কমিটমেন্ট রয়েছে।”

সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, “আমাদের যার যার দল তাদের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের নামগুলো দিলে আমরা একত্রে বসে জোটের নেতৃত্বে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। তৃণমূলের কর্মী, ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ের কমিটির মতামতকে মূল্য দিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

আগেও দেখা গেছে, জোটে থাকলেও একই আসনে সিপিবি ও বাসদ উভয় দলেরই প্রার্থী ছিল নির্বাচনে।

এবার তেমনটা ঘটতে পারে কি না- প্রশ্ন করা হলে সেলিম বলেন, “না, ওই ধরনের আশঙ্কা নেই। তবে সময় একটু কম। যদি দেখা যায় একটি আসনে একাধিক দলেরই প্রার্থী আছে, এটা ফয়সালা করার জন্য তৃণমূলে গিয়ে আলোচনা করে তারপর একটা সমঝোতা করা হবে।”

প্রভাবহীন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে  আসছে বাম জোট। সরকার নির্বাচন কমিশনের উপর প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

তেমন ঘটতে থাকলে কী করবেন- জানতে চাইলে সিপিবি সভাপতি বলেন, “জনগণ যেমন পুলিশকে মোকাবেলা করে আন্দোলন এগিয়ে নেয়, সরকারের ষড়যন্ত্রকেও মোকাবেলা করে তারা এগিয়ে যাবে, এটাই আমরা আহ্বান জানাব।

“যে কোনো স্বৈরাচার হোক এবং একনায়কত্ববাদী শাসক হোক, তাদের পরিকল্পনা জনগণের শক্তিতেই নস্যাৎ করা সম্ভব। যদি ষড়যন্ত্র করে অন্য কোনো দেশকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করার জন্য চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমাদেরও নতুন করে ভাবতে হবে।”

সিইসির কথায় একতরফা নির্বাচনের ছক: বিএনপি

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বদলি না করার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্যকে ‘একতরফা নির্বাচনের গোপন ছক’ আঁটার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। সিইসির এ বক্তব্য ‘দলবাজ কর্মকর্তাদের’ আরো বেপরোয়া করে তুলবে বলেও মনে করে দলটি। গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে না। ওই সভায় সিইসির নির্দেশনাগুলো এবং উপস্থিত কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে মনে হয়, উভয় পক্ষই সরকারের অনুকূলে একতরফা নির্বাচনের একটা গোপন ছক তৈরি করে রেখেছে।’

প্রসঙ্গত, প্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কর্মকর্তাকে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে সিইসির কাছে দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার যখন ইসিতে ওই ৯২ জনের তালিকা জমা দিতে যায়, তখন নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিং দিচ্ছিল ইসি। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বদলির আতঙ্ক নিয়ে নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হবে। তখন সিইসি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বদলি করা হবে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

সিইসির এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বিতর্কিতদের’ সরাতে বিরোধী দলগুলোর আহ্বানের বিপরীতে সিইসির এ ধরনের বক্তব্য ‘দলবাজ কর্মকর্তাদের’ আরো বেপরোয়া করে তুলবে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় নির্বাচন কমিশন কেবল ক্ষমতাসীনদের জন্যই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন সাজাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আশরাফউদ্দিন বকুল উপস্থিত ছিলেন।

স্কাইপ বন্ধ, ‘অন্য অ্যাপে সাক্ষাৎকারে’ তারেক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৃতীয় দিনের সাক্ষাৎকার চলছে। দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু সময় পর এ সাক্ষাৎকার শুরু হয়।

স্কাইপ বন্ধ থাকায় প্রথমে দলীয় মনোনয়প্রত্যাশীদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেননি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুরুর দিকের সাক্ষাৎকারদাতারা দলের দ্বিতীয় এ শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তবে কিছু সময় পর অন্য অ্যাপের ভিডিও কলের মাধ্যমে তারেক রহমান এ সাক্ষাৎকারে যুক্ত হন। সাক্ষাৎকার দিয়ে আসা একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা যথারীতি সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।

সকাল ৯টার কিছু সময় পর সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ফেনী-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। বিকালে হবে সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার।

শামসুদ্দিন দিদার জানান, গতকাল বিকাল থেকেই গুলশান কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। তাই সকালে স্কাইপে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্বে যুক্ত হতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

একাধিক মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপে এ সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কিছু করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সোমবার রাতে বাংলাদেশে স্কাইপ বন্ধ করে দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে সাক্ষাৎকার শুরুর আগে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী গণমাধ্যমকে বলেন, স্কাইপ বন্ধ। তবে অন্য অ্যাপের মাধ্যমে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই সাক্ষাৎকার থাকার চেষ্টা করবেন।

পরে সাক্ষাৎকার দিয়ে বেরিয়ে এসে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন বলেন, মনোনয়ন বোর্ড আমাদের মনোনয়ন নিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যুক্ত হয়েছিলেন। স্কাইপে নয়, অন্য একটি উপায়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তারেক রহমানের এসময়কার কথোপকথন নিরবচ্ছিন্ন ছিল না বলে জানান জয়নুল। তিনি বলেন, সংযোগটি বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল।

তারেক রহমানসহ দলের মনোনয়ন বোর্ডের সঙ্গে কি কথা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবদীন বলেন, মনোনয়ন বোর্ড বলেছেন, এক আসনে বহু মনোনয়নপ্রত্যাশী। সবাইকে মনোনয়ন দেয়া যাবে না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।

‘আমার আসনে (ফেনী-২) ১৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ রকম নোয়াখালী, ফেনীর বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। সবাইকে তো মনোনয়ন দেয়া যাবে না। মনোনয়ন বোর্ড এ বিষয়েই গুরুত্ব দিয়েছে’- যোগ করেন জয়নুল।

সাক্ষাৎকার দিয়ে বেরিয়ে এসে ফেনীর এক মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, পৃথিবীতে অনেক মাধ্যম আছে। পানির স্রোত যেভাবে আটকে রাখা যায় না, আমাদের এই আবেগ আটকে রাখবেন কীভাবে? তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান অন্য অ্যাপের ভিডিওকলের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন মনোনয়ন বোর্ডে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছাড়াও দলের সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত রয়েছেন সাক্ষাৎকারে।

রোববার সাক্ষাৎকারের প্রথম দিন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং সোমবার বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা।

প্রথম দুদিন স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

একাধিক মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী কাজে যুক্ত হতে পারেন না এমন অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যায় আওয়ামী লীগ।

কিন্তু ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ মুহূর্তে তারেকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই।

এর পর রাতে বাংলাদেশ থেকে স্কাইপ বন্ধ পাওয়ার খবর আসতে থাকে সংবাদমাধ্যমে।

নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে সরকারি নির্দেশে টেলি রেগুলেটরি কমিশন-বিটিআরসি এমন কাজ করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

এ বিষয়ে বিটিআরসি গতকাল জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হতে পারে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

তবে বিটিআরটির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। সে কারণে স্কাইপটি বন্ধ করা হয়েছে।

তবে ওই সূত্রগুলো নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিটিআরসির ওই নির্দেশনা পাওয়ার তারা স্কাইপ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্কাইপের সব সেবা বন্ধ রয়েছে।

বিএনপি গুলশান কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত এ সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষ হবে। কাল সকালে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর এবং বিকালে ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার হবে।

১২-১৬ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রি করে বিএনপি। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় বিএনপি।

দলটি সর্বোচ্চসংখ্যক ৪ হাজার ৫৮০ মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে।

বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ: সিইসি

 

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘পুলিশ আমাদের কথা মান্য করে। আমাদের কথার বাইরে বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করে না। পুলিশ ইসির নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশকে ইসি নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ আমাদের কথা দিয়েছে এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে।’

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সম্মেলন কক্ষে ১৮টি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুরুল হুদা এ কথা বলেন।

সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘ইসির কাছে সরকারের কোনো নির্দেশ নেই। নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের নির্দেশ মাঠে আছে এবং সেটা মাঠে প্রতিফলিত হচ্ছে।’

মতবিনিময় সভায় ১৮টি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেদায়িত্ব পালনে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইসির সঙ্গে পুলিশ ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সভা হয়।

‘গোপন বৈঠকের’ খবর দিলেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে। প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

আজ (শনিবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।’

রিজভী আরও বলেন, সেই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেওয়া হোক প্রশাসনে হাত দেওয়া যাবে না, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেটির আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বৈঠকে আরো বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তাণ্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেন ভোটকেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জেতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠাণ্ডা করা হবে। এরপর থেকে এ ধরনের সভা খুব বেশি করা যাবে না। তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে আটজন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ছয়জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলত এখানে সব ধরনের অফিসারদের গমনাগমন ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে অফিসার্স ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে কী ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে- উপরোক্ত দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশ্যে কখনো নীরবে-নিভৃতে বাস্তবায়ন করছে-এই অভিযোগ এখন সর্বত্র ভুরিভুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরসন করতে সক্ষম হয়নি। মোদ্দাকথা তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী প্রশাসনিক দাপটের ছবিটা মোটেও বদলায়নি। কিন্তু কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদের স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করছে বলেই এই অভিযোগগুলো থেকে ছিটকে আসা কাদা তারা ঠেকাতে পারে না। বিতর্কিত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।’

এ সময় রিজভী জানান, রমনা থানা ছাত্রদল নেতা মো. জুয়েল রানাকে গত ২১ নভেম্বর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ, এখনো তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।  তাঁর পরিবারসহ দলের নেতা–কর্মীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। অবিলম্বে তাঁকে জনসমক্ষে হাজির করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

নৌকা বনাম ধানের শীষে ১১ বনাম ১১

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আর কোনো সংসদ নির্বাচনে দুই মার্কার ভিত্তিতে এতটা বিভক্তি দেখা যায়নি। নিজেদের নির্বাচনী প্রতীক তুলে রেখে বড় দলের পতাকাতলে শামিল হওয়া এমন ঢালাও নজিরও আর নেই।

জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের যে সুযোগ আইনে রয়েছে, তা কাজে লাগাতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আবেদন করার সুযোগ ছিল।

সেসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, তাতে দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টিই নির্বাচন করতে চায় নৌকা অথবা শীষ প্রতীক নিয়ে।

এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের ১১টি দল ‘নৌকা’ প্রতীক এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ১১টি দল ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানিয়েছে।

বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হলেও নিজেদের প্রতীক লাঙ্গল নিয়েই ভোট করবে। অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের সুযোগে তাদের এই প্রতীক চেয়েছে আরও দুটি দল। বাকি ১৪টি নিবন্ধিত দল নিজেদের প্রতীকেই ভরসা রাখছে।

কোন দল কোন মার্কায়

দলের নিবন্ধন নম্বর দলের নাম ও প্রতীক যে প্রতীকে ভোট করতে ইচ্ছুক
এলডিপি, ছাতা  ধানের শীষ
জেপি, বাইসাইকেল বাইসাইকেল ও নৌকা
সাম্যবাদী দল, চাকা নৌকা
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গামছা গামছা অথবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রতীক
সিপিবি, কাস্তে  
আওয়ামী লীগ, নৌকা নৌকা
বিএনপি, ধানের শীষ ধানের শীষ
গণতন্ত্রী পার্টি, কবুতর নৌকা
ন্যাপ, কুঁড়েঘর নৌকা অথবা কুঁড়েঘর
১০ ওয়ার্কার্স পার্টি, হাতুড়ী নৌকা
১১ বিকল্পধারা, কুলা কুলা অথবা নৌকা
১২ জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল লাঙ্গল
১৩ জাসদ, মশাল নৌকা
১৫ জেএসডি, তারা ধানের শীষ অথবা তারা
১৬ জাকের পার্টি, গোলাপ ফুল  
১৭ বাসদ, মই নৌকা
১৮ বিজেপি, গরুর গাড়ী গরুর গাড়ী অথবা ধানের শীষ
১৯ তরীকত ফেডারেশন, ফুলেরমালা নৌকা
২০ খেলাফত আন্দোলন, বটগাছ  
২১ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, হারিকেন  
২২ এনপিপি, আম আম
২৩ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেজুরগাছ খেজুরগাছ অথবা ধানের শীষ
২৪ গণফোরাম, ঊদীয়মান সূর্য ধানের শীষ
২৫ গণফ্রন্ট, মাছ  
২৬ পিডিপি, বাঘ বাঘ
২৭ বাংলাদেশ ন্যাপ, গাভী গাভী অথবা নৌকা
২৮ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, কাঁঠাল কাঁঠাল অথবা জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
৩০ ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, চেয়ার নৌকা অথবা চেয়ার
৩১ কল্যাণ পার্টি, হাতঘড়ি ধানের শীষ অথবা হাতঘড়ি
৩২ ইসলামী ঐক্যজোট, মিনার  
৩৩ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, রিক্সা লাঙ্গল
৩৪ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা  
৩৫ ইসলামী ফ্রন্ট, মোমবাতি মোমবাতি অথবা লাঙ্গল
৩৬ জাগপা, হুক্কা হুক্কা অথবা ধানের শীষ
৩৭ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কোদাল  
৩৮ খেলাফত মজলিশ, দেওয়াল ঘড়ি দেওয়াল ঘড়ি অথবা ধানের শীষ
৪০ বিএমএল, হাত (পাঞ্জা) হাত (পাঞ্জা) অথবা ধানের শীষ
৪১ মুক্তিজোট, ছড়ি সময় বাড়ানোর আবেদন
৪২ বিএনএফ, টেলিভিশন সময় বাড়ানোর আবেদন

ইসির উপ সচিব আব্দুল হালিম খান জানান, জোটভুক্ত হিসেবে অনিবন্ধিত দলের তালিকাও দিয়েছে অনেক দল। তবে ইসির শুধু নিবন্ধিত দলের বিষয়টি আমলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। দলীয় ও জোটভুক্ত প্রার্থীকে সংরক্ষিত অভিন্ন প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দলের বাইরে পছন্দসই প্রতীক দিতে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

জোটভুক্ত হয়ে প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান দলটির সম্মতিই মুখ্য বিবেচিত হবে বলে জানান তিনি।

# নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলিয়ে মোট ১২টি দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়।

অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনের ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জোটের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। আরেক জোট শরিক জাতীয় পার্টি অনেক নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে আলাদা ভোট করে।

# সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসন শেষে ২০০৮ সারের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ৩৮টি দল। আওয়ামী লীগ এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দদলীয় মহাজোট গঠন করে, অন্যদিকে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে চারদলীয় জোট গঠন করে।

নিবন্ধিত দল জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন মহাজোটের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকেই ভোটে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি জোটে থাকলেও ভোট করে নিজেদের লাঙ্গল প্রতীকে।  অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিবন্ধিত দল বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আরেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ভোট করে নিজেদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।

# রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরুর পর এখন অনিবন্ধিত কোনো দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তবে নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোট বেঁধে তাদের মার্কা নিয়ে অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীও ভোট করতে পারে। সেক্ষেত্রে অনিবন্ধিত দলের ওই প্রার্থী কাগজে কলমে মনোনয়নদাতা নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হন।

# রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জোটের পরিসর বাড়িয়ে ভোটের মাঠ চাঙ্গা রাখতেই বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে কাছে টানে। নিবন্ধন থাক বা না থাক, কর্মী-সমর্থক যত কমই হোক, জোটের রাজনীতির মূল কথা হল- দল ভারী দেখিয়ে ভোটারদের নজর কাড়া।

প্রার্থী প্রত্যয়নে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম চেয়ে চিঠি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী প্রত্যয়নে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী ও নমুনা স্বাক্ষর চেয়ে নিবন্ধিত ৩৯টি দলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি কর্মকর্তা হালিম খান শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা দলগুলোর মহাসচিবদের চিঠি পাঠিয়েছি। এটার জন্যে কোনো সময় উল্লেখ করিনি।  আইন অনুযায়ী তফসিলে উল্লেখ করা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের আগে তা জানাতে হবে।”

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। এর আগে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়, বাছাই ২ ডিসেম্বর ও ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে।

দলগুলোর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের সমমর্যাদার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যয়ন করে থাকেন বলে জানান আব্দুল হালিম খান।

তিনি বলেন, একই আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন কে পেলেন, তা নিয়ে কখনও কখনও বিপত্তি দেখা দেয়।

কোনো দলের একাধিক ব্যক্তি চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পত্র দেওয়ার নজিরও রয়েছে। বিশেষ করে, দল ভাঙনের পর এক অংশ একজনকে, আরেক অংশ অন্যজনকে চূড়ান্ত বলে দাবি করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় জাসদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

“নির্বাচনী আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী কে থাকবেন বা দলের একক প্রার্থিতা নিশ্চিত হতে দলীয় প্রত্যয়ন আবশ্যক। সেক্ষেত্রে যিনি দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার নাম, পদবী ও স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিষয়টি আমরা জানিয়ে দিচ্ছি,” বলেন এ কর্মকর্তা।

স্পিন জাদুতে টাইগারদের দাপুটে জয়

 

 

স্পিন জাদু দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৪ রানে হারাল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজরা।

চতুর্থ ইনিংসে উইন্ডিজরা অলআউট ১৩৯ রানে

বাংলাদেশের দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরু থেকেই টাইগার স্পিনের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন উইন্ডিজরা। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন সুনীল আমব্রিস ও ওয়ারিক্যান। আমব্রিস ৪৩ ও ওয়ারিক্যান ৪১ রান করেন। হেটমায়ার (২৭) ছাড়া আর কেউ দেখেননি দুই অঙ্কের মুখ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। সর্বোচ্চ ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তাইজুল ইসলাম। এ ছাড়া সাকিব তিন  ও মিরাজ দুই উইকেট নেন।

সাকিবদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১২৫ রানে, টার্গেট ২০৪

৭৮ রানের লিড নিয়েও ব্যাটসম্যানদের বিব্রতকর ব্যাটিংয়ে মাত্র ২০৪ রানের টার্গেট দিতে পারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১২৫ রানে। সর্বোচ্চ ৩১ আসে মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে। উইন্ডিজদের হয়ে বিশু নেন সর্বোচ্চ চার উইকেট। এ ছাড়া রোস্টন চেজ তিন ও ওয়ারিক্যান নেন দুই উইকেট।

প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজরা অলআউট ২৪৬ রানে,৭৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

উইন্ডিজ সিরিজের চট্টগ্রাম টেস্টে আজ দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বাংলাদেশের দেওয়া ৩২৪ রানের লিডে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৪৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ ৬৩ করে রান আসে হেটমায়ার ও ডওরিচের ব্যাট থেকে। শুরু থেকেই টাইগারদের স্পিন জাদুতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে অভিষেক টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান নাঈম হাসান। এ ছাড়া সাকিব নেন তিন উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রানে থামে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ থামে ৩২৪ রানে। আগের দিনের ৮ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মাত্র ৯ রান যোগ করে ৩২৪ রানে অলআউট হন সাকিব-মুশফিকরা। সর্বোচ্চ ১২০ রান আসে মুমিনুলের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া তাইজুল ৩৯ ও সাকিব ৩৪ রান করেন। উইন্ডিজের হয়ে চার উইকেট করে নেন ওয়ারিকান ও গ্যাব্রিয়েল।

ম্যাচ প্রিভিউ

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় নাঈম হাসানের। চার স্পিনার ও এক পেসার নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন খালেদ আহমেদ ও লিটন দাস। খালেদের জায়গায় অভিষেক হয়েছে নাঈমের এবং লিটনের জায়গায় একাদশে ফেরেন সৌম্য সরকার। সাকিব দলে ফেরায় জায়গা হয়নি জিম্বাবুয়ে সিরিজে চমৎকার খেলা আরিফুল হকের।

বাংলাদেশ দল :

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল :

ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), কিয়েরন পাওয়েল, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, রোস্টন চেজ, সুনীল আমব্রিস, শেন ডাউরিচ, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, জোমেল ওয়ারিকান, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।