সিইসির কথায় একতরফা নির্বাচনের ছক: বিএনপি

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বদলি না করার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্যকে ‘একতরফা নির্বাচনের গোপন ছক’ আঁটার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে বিএনপি। সিইসির এ বক্তব্য ‘দলবাজ কর্মকর্তাদের’ আরো বেপরোয়া করে তুলবে বলেও মনে করে দলটি। গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে না। ওই সভায় সিইসির নির্দেশনাগুলো এবং উপস্থিত কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে মনে হয়, উভয় পক্ষই সরকারের অনুকূলে একতরফা নির্বাচনের একটা গোপন ছক তৈরি করে রেখেছে।’

প্রসঙ্গত, প্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কর্মকর্তাকে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে সিইসির কাছে দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার যখন ইসিতে ওই ৯২ জনের তালিকা জমা দিতে যায়, তখন নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিং দিচ্ছিল ইসি। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বদলির আতঙ্ক নিয়ে নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হবে। তখন সিইসি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বদলি করা হবে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

সিইসির এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বিতর্কিতদের’ সরাতে বিরোধী দলগুলোর আহ্বানের বিপরীতে সিইসির এ ধরনের বক্তব্য ‘দলবাজ কর্মকর্তাদের’ আরো বেপরোয়া করে তুলবে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় নির্বাচন কমিশন কেবল ক্ষমতাসীনদের জন্যই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন সাজাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, আশরাফউদ্দিন বকুল উপস্থিত ছিলেন।