মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই

গীতিকার সুজন হাজংঃ আদিবাসী হাজং জাতিগোষ্ঠী থেকে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনলেন গীতিকার ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জনপ্রিয় যুবনেতা সুজন হাজং।

 

 

 

গত ১১ নভেম্বর রবিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির কার্যালয় থেকে তিনি দলীয় মনোনয়ন কেনেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমনি এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ এমপি, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, কবি আসলাম সানী প্রমুখ।

গারো, চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এর আগে সংসদ সদস্য হলেও হাজং সম্প্রদায় থেকে এই প্রথম কেউ মনোনয়নপত্র কিনলেন। তিনি নেত্রকোণা-১ (দূর্গাপুর, কলমাকান্দা) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। এ প্রসঙ্গে সুজন হাজং বলেন, বহুজাতি, বহুভাষা এবং সংস্কৃতির অনন্য দেশ, বাংলাদেশ।

এদেশে বৃহত্তর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী ছাড়াও প্রায় ৪৫টির অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তাই আমরাও স্বপ্ন দেখি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি থাকবে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহা সড়কে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই। তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল।

এখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতার স্বপক্ষে সকল মানুষের রাজনীতি করার সুযোগ রয়েছে। তাই আমিও স্বপ্ন দেখি মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে। তিনি বলেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। মনোনয়ন পেলে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল কৃষক আন্দোলনের পূণ্যভূমি আমার নির্বাচনী এলাকা (নেত্রকোনা-১) দূর্গাপুর কমলাকান্দাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে চাই আমার অবহেলিত পাহাড়ী জনপদের মানুষের মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার লড়াইয়ে। আমি তাদের পাশে সাহসে বুক বেঁধে দাঁড়াতে চাই। সুজন হাজং ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিতে সদস্য হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় নিয়োজিত করেন নিজেকে। সে কারণে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনেও পরিচিত মুখ সুজন হাজং।

কবিতা চর্চার পাশপাশি বেশ কিছু গানও লিখেছেন তিনি। তার লেখা আধুনিক গান ও দেশের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ কণ্ঠশিল্পীরা। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এ প্রজন্মের চার শিল্পী কিশোর দাশ, পুতুল, পুলক ও লিজা।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু ও এই পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে শেখ রাসেলকে নিয়ে করেছেন ছয়টি গান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লিখেছেন আরো ৮টি গান যাতে কণ্ঠ দিচ্ছেন সার্কভুক্ত ৬টি দেশের ৮ জন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

সুজন হাজং বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত। তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন ‘দ্য মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দ্য ওয়ার্ল্ড সোসাইটি- বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ এর সাংগঠনিক সম্পাদক, ‘বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতি বিশ্ব’ এর সাধারণ সম্পাদক, ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র ফোরাম’ এর সভাপতি (সাবেক), ‘বাংলাদেশ হাজং যুব সংগঠন’ এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।