‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’: আবু হত্যা প্রসঙ্গে কাদের

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবু হত্যার পেছনে দলীয় কোন্দল থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি ক্ষমতাসীনদের দায়ী করার পর শুক্রবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদেরের এমন মন্তব্য এল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “যশোরের কোন প্রার্থী, বুড়িগঙ্গা নদীতে লাশ, এর মানে তো ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। এটা ওদের নিজস্ব কোন্দলের কারণেও হতে পারে “

যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু (৫৮) ঢাকায় এসে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। সাক্ষাতকারের আগের দিন পল্টনের এক হোটেল থেকে তিনি নিখোঁজ হন এবং বুধবার কেরানিগঞ্জে বুড়িগঙ্গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্বজনরা বলছেন, আবুকে অপহরণ করে তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এই বিএনপি নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের মদদে পরিকল্পিতভাবে’ হত্যা করা হয়েছে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে আগ্রহী যশোরের এই নেতাকে।

ওই অভিযোগ অস্বীকার করে কাদের বলেন, “কারও সঙ্গে কোন্দলের কারণে তারা উনাকে মারতে পারে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের কী স্বার্থ থাকতে পারে! যশোরের মনোনয়ন প্রত্যাশীর লাশ বুড়িগঙ্গায় কেন পাওয়া গেল- তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাদেরও তো অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছে। একজন সরে গেলে অন্যজনের জন্য সুবিধা হতেও পারে।”

সুষ্ঠু ভোট হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পাবে বলে যে দাবি দলটির নেতারা করে আসছেন, তাকে নিছকই ‘সংখ্যাতত্ত্বের’ খেলা হিসেবে দেখতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “আমরা ওভার ওল এটুকু বলতে পারি, হিসেবের অংকে আগামী নির্বাচনে আমাদের দল ও জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তবে এসব কথা বলা উচিত নয়, এতে জনগণকে অসম্মান করা হয়। জনগণ আমাদের যত আসনে ভোট দেবে আমরা ততই পাব। আমরা কোনো সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস করতে চাই না। কে কত আসন পাবে দেশের জনগণই তা ঠিক করবে।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাদের বলেন, “এর আগে নির্বাচনে বিএনপি আমাদের ত্রিশ আসন দিয়েছিল, নিজেই পেয়েছিল ৩০ আসন। এবার তাদের কেউ কেউ আমাদের ১০ আসনও দিচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে সারা দেশে তাদের এই জোয়ার কিন্তু নেই। এই সাময়িক জোয়ারে ক্ষমতার রঙ্গিন খোয়াব যদি বিএনপি নেতারা দেখেন, তাহলে ৩০ ডিসেম্বর টের পাবেন।’’

নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাদের হয়রানির অভিযোগও অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগ সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের।

বিএনপি নেতা রিজভীর দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন “নয়াপল্টনে তাদের একজন আবাসিক প্রতিনিধি রয়েছে। এ ধরনের আজগুবি অভিযোগ তিনি করেন। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার প্রডাকশনের জন্য। জনমত পক্ষে না থাকলে প্রশাসন ও এস্টাব্লিশমেন্ট দিয়ে কোনো মেকানিজম কাজ করবে না।”

শরীকদের সঙ্গে আসন ভাগ নিয়ে জটিলতা হচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, দরকষাকষি হলেও কোনো ধরনের টানাপড়েন নেই।

“এখানে বানরের পিঠা ভাগ করে তো লাভ নেই। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। এখানে কে কত সিটে জিততে পারবে, এটাই হল আমাদের প্রাইম কনসিডারেশন। যারা ইলেক্টেবল, উইনেবল, তাদেরই আমরা সিলেক্ট করব।”

জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মৌখিকভাবে হয়েছে। যখন ঘোষণা হয়ে যাবে, তখন তো আপনারা পেয়ে যাবেন।”

শরীকদের কত আসন দেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে আভাস চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমি একটা অনুমান করতে পারি। আমি বার-বার বলেছি প্রার্থীকে ইলেক্টেবল হতে হবে, ইউনেবল হতে হবে। সে ক্ষেত্রে ৬৫-৭০ এর জায়গায় ২/৪টা বাড়তেও পারে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একাধিক আসনে নির্বাচন করার কোনো চিন্তা আছে কি না- এ প্রশ্নে কাদের বলেন, “এক আসনের বেশি নির্বাচন করার যোগ্যতা আমার নেই।”

অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন