জাপার মনোনয়ন ‘প্রায় চূড়ান্ত’, জানেন না বোর্ড সদস্যরা

তাদের একজন বলেছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যদের কোনো মতামত পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেননি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য ১৫ সদস্যের এই পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছেন এরশাদ। অবশ্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে গত ২০ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন, মনোনয়নর বিষয়ে তিনি এককভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করবে বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো রফার খবর এখনও আসেনি।

প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছি। কিছুদিনের মধ্যে আমরা তা প্রকাশ করব।”

কিন্তু পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলছেন, ওই তালিকা নিয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, “এই তালিকা নিয়ে আমি কিছু জানি না। তালিকা চূড়ান্ত করছেন (স্যার)। শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন এই তালিকায়, আমি জানি না।”

আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মনোনয়নের ওই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন দলের শীর্ষ চার নেতা। এ কাজে পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।

পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য বাবলা বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করে লাভ নেই। আমি কিছু জানি না।”

এরশাদ সম্প্রতি তার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতাদের লিয়াজোঁ কমিটির একটি বৈঠক করেন।  সে বৈঠকে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান জোট শরিক বিএনএর মুখপাত্র মোস্তাফিজুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “জাপা মহাজোটে গেলে আমরা কতটি আসন পাব, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।”

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবার ঢাকা-১৭, রংপুর-৩, সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জাতীয় পার্টি  জানিয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে এরশাদ এখন নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা না করে গোপনে অবস্থান করছেন বলে যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, তা ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, “স্যার এখন ভালো আছেন। নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করছেন।”

শরিকরা চায় ১২ আসন

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিকরা জাতীয় পার্টির কাছে ১২টি আসন দাবি করেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট.জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বাংলাদেশ জাতীয় জোট রয়েছে এরশাদের এই জোটে।

এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বিএনএ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। তারা জাতীয় প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন বলে এরশাদ এর আগে জানিয়েছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিস নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা  ৪০টি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এম এ মতিন নিজে চট্টগ্রাম -১১, ১২ ও ১৩ আসন থেকে নিজে তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম- ১৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, চাঁদপুর- ৫, ফেনী-১ আসনগুলোতে তারা মনোনয়ন চান বলে জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মতিন বলেন, “আমরা আশা করছি, জাতীয় পার্টি মহাজোটে গেলে আমরা তাদের কাছ থেকে পাঁচটি আসন পাব।

৩৪টি ইসলামিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় ইসলামী মহাজোটের মুখপাত্র মো. আসাদুজ্জামান জানান, তারা জাতীয় পার্টির পাঁচটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

ফেনী-৩, ফেনী-৪, নোয়াখালী-১, ঢাকা-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করা ইসলামী মহাজোট দুটি আসন পেলেই ‘সন্তুষ্ট’ থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান।

এদিকে বিএনএ‘র  মুখপাত্র মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তারা জাতীয় পার্টির কাছ থেকে পাঁচটি আসন দাবি করেছেন।

“নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের এই জোট। আসন না দিলে যে সিদ্ধান্ত নেব, তা ভোটের পর।”