নির্মাতা পিপলু খান বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যা, যার জীবনে এত উত্থান-পতন রয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি কী করে এই ছবিটাকে আরও বিস্তৃত করে তুলে ধরতে পারি। আমাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ করেছে তার জীবনের সাহসের সঙ্গে উত্থানের গল্প।”

শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে খুব স্বাভাবিকভাবেই এসেছে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক, তার সংস্পর্শে বেড়ে ওঠা, বাবার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তার অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি।

পিপলু বলেন, “তাছাড়া শেখ রেহানার কথাও এখানে খুব স্বাভাবিকভাবে চলে আসে। কারণ তারা দুই বোন হরিহর আত্মা। পরস্পরের জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহচর্য পাওয়ার কথাও উঠে আসে পিপলুর কথায়।

“যখন প্রথম কাজ করি, তাকে জানিয়েছিলাম, আপনাকে আপা বলতে চাই। আমি আমার চারজন বোনের সঙ্গে বড় হয়েছি। আমার মনে হয়েছে তাকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টরি করতে হলে তার সাথেও আমার সম্পর্কের একটা জায়গায় যেতে হবে।

“আমি তাকে (শেখ হাসিনা) জানিয়েছিলাম, আপনার কিচ্ছু করতে হবে না। কেবল মনে করবেন, আমি আপনার একজন ভাই। প্রথম দুই বছর তিনি আমাকে ‘এই ছেলে’ বলে ডাকতেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি আমাকে পিপলু নামে ডাকতে শুরু করেন।”

 

প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পিপলু বলেন, “১৪ দিন ৩২ নম্বরে শুটিং হয়েছে। খেয়াল করলাম, সেখানে দেখার মতো কত কিছু আছে! অথচ যেই পরিবারটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেই সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

“ঠাকুর বাড়িতে কী রান্না হত, সেটা আমরা জানি, অথচ জাতির জনকের স্ত্রীর নাম রেনু, এটা আমার ছেলে জানে না কেন? সুলতানা কামাল কত সুন্দর করে শাড়ি পড়তেন, এটা আমাদের মেয়েরা ফলো করে না কেন? খুব সাধারণ বিষয় মনে হতে পারে, তবুও আমাদের একটা রিসার্চ টিম ছিল। ডকুমেন্টরিতে তারা অনেকগুলো বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে এনেছেন।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোরিফাই করতে নয়। কোনো রাজনৈতিক বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েও নয়, বরং একটি দেশের ইতিহাসের একটি সময়কে ৭০ মিনিটে তুলে আনতে চেষ্টা করা হয়েছে।”

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৬ নভেম্বর থেকে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লক বাস্টার মুভি, মতিঝিলের মধুমিতা হল ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে একযোগে প্রদর্শন শুরু হবে ‘শেখ হাসিনা: আ ডটার’স টেল’ এর।

সিআরআইর ব্যানারে প্রামাণ্যচিত্রটির প্রযোজক থাকছেন রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু।

প্রামাণ্যচিত্রটির সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন দেবজ্যোতি মিস্ত্র, সিনেমাটোগ্রাফিতে সাদিক আহমেদ, সম্পাদনা করেছেন নবনীতা সেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআরআইর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর শিবু কুমার শিল, গ্রে ঢাকার হেড অ্যান্ড ম্যানেজিং পার্টনার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন।