ওয়াসার পানির মান পরীক্ষায় কমিটি

 

 

 

এই কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার পানির মান পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গঠিত কমিটিতে স্থানীয় সরকার প্রশাসন, বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং অ্যন্ড কনসালটেশন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে বিভাগ ও আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধি থাকবেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।

ওয়াসার নিরাপদ পানি সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং নিরাপদ পানি সরবরাহে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্থানীয় সরকার প্রশাসন, স্বাস্থ্য সচিব, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন ও প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত খবর সংযুক্ত করে এই রিট আবেদন করা হয় হাই কোর্টে।

আদালতের আদেশের পর রিটকারীপক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংবিধানের ১৫ ও ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের জীবনমান নিরাপদ ও উন্নয়নের অন্যতম দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

“জনগণের আরোগ্যের প্রয়োজনে স্বাস্থ্যহানিকর যে কোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সংবিধানে। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী পনি সরবরাহের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ওয়াসার পনিই নিরাপদ না।

“বিশেষ করে নগরাঞ্চলে পাইপলাইনে সরবরাহ করা পানিতে ক্ষতিকর ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ত্ব পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

তানভীর বলেন, “আদালত আদেশে আপাতত ঢাকা ওয়াসার পানির পানির মান পরীক্ষা করতে বলেছে। পরে হয়ত দেশের সব অঞ্চলের পানির মান পরীক্ষা করতে বলবে।”

এ আইনজীবী জানান, নিরাপদ পানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের উকিল নোটিস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাদের সাড়া না পেয়ে এই রিট আবেদন করেছেন।

সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষত আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংক ওই প্রতিবেদন দেয়; যা গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশ করা হয়।

পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা এবং দারিদ্র্যের মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে বিশ্বের ১৮টি দেশে এই গবেষণা চালায় বিশ্ব ব্যাংক। তার ভিত্তিতে ১৮টি দেশের জন্য আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশ নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ অপরিচ্ছন্ন এবং অনিরাপদ উৎসের পানি পান করছে। পানির ‘নিরাপদ’ বিবেচিত উৎসগুলোর ৪১ শতাংশই ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত। ১৩ শতাংশে রয়েছে আর্সেনিক।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের পানির ৮২ শতাংশেই রয়েছে ই-কোলাই। ৩৮ শতাংশ টিউবওয়েলের পানিতে পাওয়া গেছে এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহের জন্য ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “নিম্নমানের পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দেশের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এ দুটি বিষয় শিশুর পুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশু বয়সের তুলনায় উচ্চতায় কম। নিরাপদ ও মানসম্মত পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে শিশুদের বেড়ে ওঠা এবং দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।”

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, দেশের পানি সরবরাহ, পয়ঃব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম। গত এক দশকে এই খাতে বাজেটে বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক কমেছে।