খালেদাকে ভোট থেকে দূরে রাখতে এই রায়: বিএনপি

 

 

সোমবার এ মামলার রায় আসার ঘণ্টাখানেক পর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের এই প্রতিক্রিয়া আসে।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য এবং আসন্ন নির্বাচনের যাতে তিনি অংশ গ্রহণ করতে না পারেন- সে জন্যই তাকে এ ধরনের একটি সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া এই সাজা প্রদান করা হয়েছে।”

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত।

একই আদালত চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আছেন। তার অনুপস্থিতিতেই সোমবার দাতব্য ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা হয়।

ওই রায়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন থেকে মঙ্গলবার সারাদেশে জেলা সদর-মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই রায় সম্পূর্ণভাবে ফরমায়েসি রায়। সরকার যা চেয়েছে, মন্ত্রীরা যা বলেছেন, তারই প্রতিফলন এই রায়ের মধ্যে এসেছে। আমরা এই রায় প্রত্যাখান করছি।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা মনে করছি, এই রায় কোনোমতেই ন্যায়বিচার নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

রায় ঘোষণার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় একটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে- এটা আইনবিরোধী। আইনে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, পুলিশ কাস্টডিতে আছেন, তাকে উপস্থিত করেই রায় দিতে হবে। তা না করে তার অনুপস্থিতিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

“এই সাজানো মামলার বিচারকাজও একতরফাভাবে চলেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পরে আদালতে আসতে পারছিলেন না। এরপরে তার বিচারের জন্য আদালত স্থানান্তর করা হয় কারাগারে। সেখানে বিচারকাজ শুরু করা হয়। এটাও অবৈধ।”

এদিকে রায়ের পর সোমবার বিকাল ৫টায় নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, মুনির হোসেন, শাহিন শওকত, আবদুল আউয়াল মিন্টু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।