মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের আন্দোলনে বিভক্তি

মঙ্গলবার বিকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ ব্যানারে আন্দোলনকারীদের এক পক্ষ।

এই ব্যানারে ছয় দিন আন্দোলন চলার পর সোমবার রাতে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের উপস্থিতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন ব্যানার ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চ’র ঘোষণা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতের কথা জানানো হয়েছিল।

‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’র আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন তখন আন্দোলনের নেতৃত্ব  শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাহজাহান খানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’র নেতৃত্ব নিয়ে একই ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছেন।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মেহেদীর নেতৃত্বে শাহবাগে ফের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে ওই মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চারপাশের সড়কে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়।

মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “কালকে যারা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে, সেই ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ’ অনেক আগে থেকেই মন্ত্রী শাহজাহান খান চালিয়ে আসছিলেন। আমরা ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ অবরোধ চালিয়ে আসছিলাম।

“দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবরোধ চলছে, চলবে। এতদিন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন জামাল উদ্দীন স্যার। তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। গতকাল সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সবার কণ্ঠভোটে আমাকে আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে আমি আন্দোলন চালিয়ে নিচ্ছি।”

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশ মেনে মন্ত্রিসভা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত ৩ অক্টোবর শাহবাগে অবরোধ শুরু করে

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নামে দুটি সংগঠন। পরে দুই সংগঠন মিলে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ গঠন করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।

তারা আগের মতোই মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বহালের দাবি জানায়।

এদিকে নতুন অবস্থানের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেন, “আমরা তো ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ থেকে আমাদের আন্দোলনের দায়িত্ব ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চ’র হাতে তুলে দিয়েছি। তারা ১৪ তারিখ পর্যন্ত কর্মসূচী স্থগিত করেছে।

“আমরা তাদের সাথেই আন্দোলন করব। এখন কেউ যদি ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নাম ব্যবহার করে আন্দোলন চালিয়ে যায়, তার দায়িত্ব তো আমরা নেব না। সেটার দায়-দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।”

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চ’র আহ্বায়ক করা হয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়্যারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হেলাল মোর্শেদ খানকে; সদস্য সচিব করা হয় পরিবহন শ্রমিক নেতা ওসমান আলীকে।

ওসমান আলী সোমবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আমরা সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তুলব।”

১৪ অক্টোবর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও নৌমন্ত্রী আগের দিন জানিয়েছিলেন।