পাঠ্যবইয়ের ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রীর ৪০ মিনিট

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ডেমরার মাতুলয়াইলে ৪০ মিনিটের এ পরিদর্শনের সময় কাগজের মান নিয়ে একটি ছাপাখানার মালিককে ভর্ৎসনাও করেন তিনি।

বিকাল সাড়ে ৩টায় ডেমরার লিখন আর্ট প্রেসে বই ছাপানোর কার্যক্রম দেখতে ঢোকেন নাহিদ। ছাপাখানাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বসে বই প্রক্রিয়াকরণের কাজও দেখেন মন্ত্রী।

এক পর্যায়ে একজন সাংবাদিক ছাপা হওয়া এক স্তূপ বইয়ে ‘নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করা’ হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সেদিকে ছুটে যান।

তখন মন্ত্রী বলেন, “আমরা বইয়ের মান ভালো করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু এখনও সন্তুষ্ট না। কিছু কাগজের মান ভালো, আবার কিছু কাগজের মান খারাপ।”

এরপর কিছু সময় ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ দেখে আবার ওই বইয়ের স্তূপের কাছে এসে লিখন আর্ট প্রেসের মালিক শ্যামল পালকে কাগজের মান নিয়ে ভর্ৎসনা করেন নাহিদ।

মন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকদেরই চোখে পড়েছে এটা। আপনারা মানুষকে ঠকাচ্ছেন। নোটিস পাঠানো হবে, অবশ্যই জবাব দেবেন।”

এই লিখন আর্ট প্রেস থেকে প্রাথমিকের ১১ লাখ ১৬ হাজার এবং মাধ্যমিকের ৭ লাখ বই ছাপানো হচ্ছে বলে জানান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য রতন সিদ্দিকী।

লিখন প্রেসের মালিক শ্যামল পাল দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত ৬০ জিএসএম মানের কাগজ দিয়েই মাধ্যমিকের বই ছাপানো হচ্ছে।

লিখন আর্ট প্রেসে ২০ মিনিট সময় কাটিয়ে ওই এলাকারই জনতা প্রেসে যান মন্ত্রী নাহিদ। পথে ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

এরপর জনতা প্রেসে গিয়েও বই ছাপার কার্যক্রম ও বাঁধাইয়ের কাজ দেখেন তিনি এবং সাংবাদিকদের সামনে ছবির জন্য পোজ দেন।

এনসিটিবি সদস্য রতন সিদ্দিকী জানান, জনতা প্রেস প্রাথমিকের ৪ লাখ ৮ হাজার এবং মাধ্যমিকের ২৫ লাখ পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পেয়েছে।

বিকাল ৪টার দিকে ওই প্রেস থেকে বেরিয়ে বইয়ের মান ও স্কুলে স্কুলে বই পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বইয়ের ছাপার মান প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে খারাপ মানের দিতেও পারে। আমরা মনিটরিং করছি। যারা নিম্নমানের বই ছাপাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নির্বাচনের সময়কার কথা মাথায় রেখে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এ বছর মোট ৩৫ কোটি দেব আমরা। ইতোমধ্যে ১১ কোটি বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”

এই বছর দেশের মোট ৪৩২টি ছাপাখানা থেকে বই ছাপানো হচ্ছে বলে জানান রতন সিদ্দিকী। এর মধ্যে ৫৬টির অবস্থান মাতুয়াইলে।

এনসিটিবির এই সদস্য জানান, মোট পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮২টি। তার মধ্যে প্রায় ১ কোটি বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে ভারতের দু’টি প্রতিষ্ঠান।