শহিদুলের জামিন আবেদনের শুনানি হাই কোর্টে শুরু

বুধবার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন শহিদুল আলমের আইনজীবী সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ আবেদনের উপর শুনানি করবেন জানালে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করে।

১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস আসামি শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করলে ১৬ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আবেদন নিয়ে আসেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ।

বুধবার ওই রিট আবেদনের শুনানি শুরু হল।

শুনানিতে সারা হোসেন মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা তুলে ধরে বলেন, “শহিদুল আলমের যে বক্তব্য এজাহারে তুলে ধরা হয়েছে, তার সাথে তার ফেইসবুকের লাইভের যে লিংক দিয়েছে, তার মিল নেই।

“এছাড়া এজাহারে বলা হয়েছে, শহিদুল আলমকে আটক করার সময় তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু জব্দ তালিকায় দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপের কথা বলা আছে।

“এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল আলম বলেছেন যে এ সরকার ‘অনির্বাচিত, অবৈধ’। এ বক্তব্য তো হরহামেশা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে রাজনৈতিকভাবে বলা হচ্ছে। শহিদুল আলম যদি বলেও থাকেন, সেটি তার অভিমত। একজন নাগরিকের মত প্রকাশের সে অধিকার রয়েছে।”

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না বলেও দাবি করে সারা হোসেন।

শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন বলেন, “শহিদুল আলম ফেইসবুক লাইভে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি দিয়েছেন। বলেছেন, এক শিক্ষার্থীর চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা হয়েছে, ছাত্রীদের তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন।

“একথাগুলো তিনি তার জবানবন্দিতেও স্বীকার করেছেন। তার এসব বক্তব্য ফেইসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে সরকারর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।”

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৬ আগস্ট রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আলোকচিত্রী শহিদুলের মুক্তি দাবিতে দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিবৃতি এসেছে।