যুক্তরাষ্ট্রের ‘রাশিয়ার মিসাইল ধ্বংসের হুমকিতে’ উত্তেজনা

 

 

 

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন নেটোতে নিযুক্ত ওয়াশিংটনের দূত কে বেইলি হাচিসন, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

স্নায়ুযুদ্ধের কালে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি লংঘন করে রাশিয়া ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে বলে ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের; যা মস্কোকে অল্প সময়ের নোটিসেই ইউরোপের যে কোনো স্থানে পারমাণবিক হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।

রাশিয়া অবশ্য শুরু থেকেই চুক্তিটি লংঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হাচিসন এ প্রসঙ্গেই মস্কোকে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন এ দূত বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও রাশিয়া মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখলে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

“এ মুহুর্তে, আমাদের (মিত্র) যে কোনো দেশে আঘাত হানতে পারে এমন (রুশ) ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করার সক্ষমতা খুঁজছি আমরা। চুক্তি লংঘন করে রাশিয়া যদি ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটায় তাহলে (যুক্তরাষ্ট্র) পাল্টা পদক্ষেপও নিতে পারে,” সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন হাচিসন।

টুইটারে পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার ওপর আগেভাগে হামলার কথা বলেননি বলেও দাবি তার।

“আমার বক্তব্য হচ্ছে, রাশিয়ার আইএনএফ চুক্তি মেনে চলা উচিত; না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর স্বার্থ রক্ষায় তাদের সক্ষমতার পাল্টা সঙ্গতিপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখনকার পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এ সুস্পষ্ট লংঘন সমর্থন যোগ্য নয়,” বলেছেন হাচিসন।

তিন দশক আগে ১৯৮৭ সালে ইউরোপ ও আলাস্কায় হামলা চালাতে সক্ষম এমন মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) শীর্ষক চুক্তিটি হয়েছিল।

হাচিসনের মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ অ্যাখ্যা দিয়ে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিস্তারিত জবাব চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

“মনে হচ্ছে, যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা তাদের দায়িত্বের মাত্রা বুঝতে পারছে না, পারছে না আগ্রাসী বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তির বিপদ বুঝতে,” হাচিসনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

অপরদিকে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত বলেছেন,“রাষ্ট্রদূত হাচিসন সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উন্নতির কথা বলেছেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিধিনিষেধ মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, রাশিয়ার কাছ থেকেও আমরা একই ধরনের বিষয় প্রত্যাশা করি।”

২০১৪ সালে ইউক্রেইনের ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ, সিরিয়ায় বোমাবর্ষণ ও পশ্চিমের বিভিন্ন নির্বাচনে মস্কোর হস্তক্ষেপ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এ অভিযোগ এল।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইএনএফ চুক্তিটি বলবৎ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহের কথা আগেই জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র মেনে চললে মস্কোও চুক্তির বিধিনিষেধ মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

“রাশিয়ার চুক্তি লংঘনের বিষয়টি যে আমরা জানি, কয়েক বছর ধরে সে বিষয়ে তাদেরকে বার্তা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। তারা যে চুক্তিটি লংঘন করেছে সে বিষয়ে আমাদের কাছে যে প্রমাণ আছে তাও দেখিয়েছি আমরা। আমরা আমাদের নজর নামিয়ে রেখেছি যেন রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসাতে মিত্ররা সহযোগিতা করে,” বলেন হাচিসন।

রাশিয়ার চুক্তি লংঘনের বিষয়টি নিয়ে বুধবার থেকে ব্রাসেলসে শুরু হওয়া দুইদিনের বৈঠকে নেটোভুক্ত অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস ম্যাটিসও।

“কি হতে পারে সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বানী করতে পারছি না। এটা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত। আমি কেবল বলতে পারি, ক্যাপিটল হিল ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। মিত্রদের পরামর্শ নিয়ে ফিরে এসে কিভাবে অগ্রসর হওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু করবো,” প্যারিসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন এ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।