প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সচিব কমিটি যে সুপারিশ করেছিল, তাতে সায় দিয়েছে সরকার।

 

 

 

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এতে সরকারি বেতন স্কেলের নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত আর কোনো কোটাই থাকছে না।

বুধবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুমোদন দেওয়া হয়।

কোটা পর্যালোচনা কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কোটা সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেডের (প্রথম শ্রেণি) ও ১০ম-১৩তম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে বলে পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে।

পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশে আরও বলা হয়, এসব গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা যেতে পারে। কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রতিফলিতব্য প্রভাব নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের নথি অতিসত্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। ওনারা আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে ১ম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করবেন।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা বহাল আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আজ-কালের মধ্যে আমরা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে (প্রজ্ঞাপন) হয়ে যাবে।

তবে অপরদিকে, ৩০ ভাগ কোটা বহাল রাখাসহ ৬ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার, কোটা সংস্কার কমিটির সুপারিশ বাতিল।

এছাড়াও রয়েছে, বিসিএসসহ সব চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ কোটা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন ও তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, স্বাধীনতাবিরোধীদের নাগরিকত্ব বাতিল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং সব সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কার।