ইলিশ রক্ষায় মৎস্য কর্মীদের ছুটি বাতিল

 

 

বুধবার বিকালে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর এই নিষেধাজ্ঞার সময় মাঠ পর্যায়ে অভিযানে সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ৬১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

“এই ২২ দিন উপকূলীয় চিহ্নিত ৭ সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড,  র‌্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সেসব এলাকায় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারও রেকি করবে।”

ইলিশের উৎপাদন আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ২ দশমিক ৯৮ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উৎপাদিত হয় ৪ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন ইলিশ।

প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে দেশবাসীকে মা ইলিশ ধরা, কেনাবেচা এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অমাবস্যার জোয়ারে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার নতুন ফিশারিঘাটে জেলেরা ফিরেছেন ট্রলারবোঝাই ইলিশ নিয়ে। ছবি: সুমন বাবু

ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে- মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী হতে হাইতকান্দী পয়েন্ট, তজুমুদ্দীন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দীন হতে পশ্চিম সৈয়দপুর আওলিয়া পয়েন্ট, কলাপাড়া  উপজেলার লতা চাপালি পয়েন্ট এবং কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া হতে গণ্ডামার পয়েন্ট।

ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর,  ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গোপালগঞ্জের সব নদ-নদীতে সব ধরনের মাছধরা বন্ধ থাকবে।

সুন্দরবনসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা এবং মোহনা এলাকায় এই ২২ দিন মাছধরা বন্ধ থাকবে।

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বেচা-কেনা বন্ধে মাছঘাট, আড়ত, হাটবাজারে ২২ দিন অভিযান চলবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।