রাহুল, পান্তের প্রতিরোধ ভেঙে ইংল্যান্ডের দারুণ জয়

পঞ্চম টেস্ট ১১৮ রানে জিতেছে জো রুটের দল। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকরা জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে।

মোহাম্মদ শামিকে বোল্ড করে শেষ সেশনে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেন জেমস অ্যান্ডারসন। অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রাকে পেছনে ফেলে টেস্টে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড এখন তার অধিকারে।

কেনিংটন ওভালে ৩ উইকেটে ৫৮ রান নিয়ে মঙ্গলবারের খেলা শুরু করে ভারত। জয়ের জন্য পঞ্চম ও শেষ দিন অতিথিদের প্রয়োজন ছিল ৪০৬ রান।

রাহুল ও আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে কাটিয়ে দেন। দুই ব্যাটসম্যান অবশ্য বেশ ভুগেছেন অ্যান্ডারসন, ব্রডের পেসে। অসংখ্যবার অল্পের জন্য কানা নেয়নি বল। দুই ব্যাটসম্যান পরাস্ত হয়েছেন অনেকবারই।

রাহানেকে ফিরিয়ে ১১৮ রানের জুটি ভাঙেন মইন আলি। অভিষিক্ত হনুমা বিহারিকে শূন্য রানে ফেরান বেন স্টোকস।

এরপরই নিজেদের সেরা জুটি পেয়ে যায় ভারত। লাঞ্চের খানিক আগে জুটি বাঁধা রাহুল-পান্ত নিরাপদে কাটিয়ে দেন দ্বিতীয় সেশন। তাদের ব্যাটে জয়ের আশা জাগায় ভারত।

সফরে নিজের প্রথম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করা ওপেনার রাহুল কিপার ব্যাটসম্যান পান্তের সঙ্গে গড়েন ২০৪ রানের অসাধারণ এক জুটি। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার ভারতের দুই ব্যাটসম্যান টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে পেলেন সেঞ্চুরি।

আস্থার সঙ্গে খেলে চলা রাহুলকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন রশিদ। ভারতের ওপেনার ৩২৪ বলে ২০ চার ও ১ ছক্কায় ফিরেন ১৪৯ রান করে। এই উইকেটই পাল্টে দেয় ম্যাচের চিত্র।

রশিদকে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন পান্ত। শেষ পর্যন্ত লেগ স্পিনারের গুগলিতেই ফিরেন ক্যাচ দিয়ে। ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪৬ বলে ১১৪ রান করে ফিরেন পান্ত।

প্রথম ইনিংসে প্রতিরোধ গড়া রবীন্দ্র জাদেজাকে এবার দ্রুত ফিরিয়ে দেন স্যাম কারান। তরুণ পেসার পরে ফিরিয়ে দেন ইশান্ত শর্মাকে।

আগের দিন ২ উইকেট নিয়ে ম্যাকগ্রার পাশে বসেছিলেন অ্যান্ডারসন। মঙ্গলবার কয়েকবার একটুর জন্য উইকেটের দেখা পাননি তিনি। উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টো তার বলে ছাড়েন ক্যাচ। শেষ পর্যন্ত শামিকে বোল্ড করে রেকর্ড গড়ার সঙ্গে কুকের বিদায় টেস্টে দলকে অসাধারণ এক জয় এনে দেন অ্যান্ডারসন।

মাত্র ২০ রানে শেষ ৫ উইকেট হারানো ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৩৪৫ রানে।

নিজের সবশেষ টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করা কুক জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও ইংল্যান্ডের তরুণ অলরাউন্ডার কারান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৩২

ভারত প্রথম ইনিংস: ২৯২

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (তৃতীয় দিন শেষে ১১৪/২) ১১২.৩ ওভারে ৪২৩/৮ ডিক্লে. (কুক ১৪৭, জেনিংস ১০, মইন ২০, রুট ১২৫, বেয়ারস্টো ১৮, স্টোকস ৩৭, বাটলার ০, কারান ২১, রশিদ ২০*; বুমরাহ ০/৬১, ইশান্ত ০/১৩, শামি ২/১১০, জাদেজা ৩/১৭৯, বিহারি ৩/৩৭)

ভারত ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৬৪, চতুর্থ দিন শেষে ৫৮/৩) ৯৪.৩ ওভারে ৩৪৫ (রাহুল ১৪৯, ধাওয়ান ১, পুজারা ০, কোহলি ০, রাহানে ১১৪, জাদেজা ১৩, ইশান্ত ৫, শামি ০, বুমরাহ ০*; অ্যান্ডারসন ৩/৪৫, ব্রড ১/৪৩, মইন ১/৬৮, কারান ২/২৩, স্টোকস ১/৬০, রশিদ ২/৬৩, রুট ০/১৭)

ফল: ইংল্যান্ড ১১৮ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-০তে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যালেস্টার কুক

ম্যান অব দা সিরিজ: বিরাট কোহলি ও স্যাম কারান