মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক দিচ্ছে ৫১ কোটি ডলার

বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫১ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তাদের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘ট্রান্সফর্মিং সেকেন্ডারি এডুকেশন ফর রেজাল্টস প্রোগ্রাম’ এই কর্মসূচির আওতায় উপকৃত হবে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও পাঠদানের গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি লেখাপড়ায় বিশেষ করে ছাত্রী ও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্কুলমুখী হওয়া ও ঝরে পড়া রোধ করবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মেয়েদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হবে। মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে ‘ট্রান্সফর্মিং সেকেন্ডারি এডুকেশন ফর রেজাল্টস প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায়।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারে ভূমিকা রাখবে এই কর্মসূচি। এছাড়া সরকারের মাধ্যমিক শিক্ষা মানোন্নয়নের জন্য কারিকুলামের আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের মানোন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাদান মূল্যায়ন ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারেও সহায়তা করবে প্রকল্পটি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির জবাবদিহিতার পদ্ধতিও বাস্তবায়ন করবে এই কর্মসূচি।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে এই কর্মসূচিতে ঋণ দেওয়া হবে। এই ঋণ সুদমুক্ত এবং ৬ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধযোগ্য। এতে শতকরা ০.৭৫ ভাগ সার্ভিস চার্জ নেওয়া হবে।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সেগুলো মোকাবিলায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নের পর ৭০ ভাগেরও কম শিশু মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে। আর এসএসসি পাস করছে ৬০ ভাগেরও কম। পাশাপাশি গণিত, বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষায় সরকারি ব্যয়ও অনেক কম বাংলাদেশে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান উল্লে­খ করেছেন, ‘১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংক একটি উদ্ভাবনী ও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত বৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান শুরু করে। বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ছেলেমেয়ে, বালক ও বালিকা উভয়ের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করানো। এখানে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার বেড়েছে অনেক গুণ।