শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুজব: ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, গত ২ অগাস্ট রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ২৯ জন ফেইসবুক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলা করে। একই আইনে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় রোববার একই থানায়।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকেও।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নাজমুল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ রোববার রাতে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতেও নিয়েছে। তারা হলেন মো. আলমগীর হোসেন (৩১), মাহবুবুর রহমান আরমান (২৬) ও সাইদুল ইসলাম তৌহিদ (২৬)। গ্রেপ্তার তিনজনের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মেমোরি কার্ড জব্দ করেছে পুলিশ।

রোববারের মামলায় আরমান, আলমগীর ও সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও খোঁজা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল।

আরমান নিজেকে ‘সাইবার এনালিস্ট’ বলে দাবি করেন জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “সাইবার জগতে সে ‘সাইবার মাহবুব’ নামে পরিচিত।”

নাজমুল আলম জানান, ‘ফাইট ফর সারভাইবারস রাইট’ ফেইসবুক পেইজের অ্যাডমিন আরমান গ্রেপ্তারের আগে তার পাতায় এক বার্তায় বলেছেন, “আমার টিমের একজন এর করা একটি পেজ পোস্ট এর কারণে আজ আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছি। যেহেতু তাদের লিডার আমি নিজে, তাই দায়ভারটাও আমার। যেহেতু মামলা একটা হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবেই। তবে এটা বলতে চাই, আমি বা আমার টিম সরকার বিরোধী এনটিটি নই। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই! যৌক্তিক দাবিতেই সবার মতন আমরা তাদের সমর্থন করেছি। আর কিছুই না।”

সাইদুল ইসলাম ও আলমগীর নিজেদের আইডি ব্যবহার করে সহিংসতার পক্ষে ‘গুজব রটিয়েছিল’ বলে জানান তিনি।