অনুমোদন ছাড়া টাওয়ার: ২০ কোটি টাকা জরিমানা দিল দুই অপারেটর

 

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক মো. নাসিম পারভেজ বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক জরিমানার টাকা বিটিআরসিতে জমা দিয়েছে।”

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্পেকট্রাম বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার বাংলালিংক জরিমানার ১৫ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং সম্প্রতি গ্রামীণফোন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা বিটিআরসিতে জমা দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই কারণে গ্রামীণফোনকে ৫ কোটি ১৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে বিটিআরসি। তার আগে গত বছর একই কারণে বাংলালিংকে ১৭ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া গ্রামীণফোন ১৭টি এবং বাংলালিংক ১০৯টি সীমান্তবর্তী বিটিএস (বেস ট্রানসিভার স্টেশন) বা টাওয়ার বসায়। এর মাধ্যমে গ্রামীফোন অন্য অপারেটরের তুলনায় প্রায় ৫ কোটি ১৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং বাংলালিংক ১৭ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ কোটি টাকা অননুমোদিতভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করে, যা প্রশাসনিক জরিমানা হিসেবে আরোপ করা হয়।

তবে আইন অনুযায়ী ভ্যাট ও অন্যান্য কিছু বিষয় মিলিয়ে জরিমানার ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে পুরো টাকা জমা দিয়েছে অপারেটর দুটি।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায়, সীমান্ত এলাকায় অল্প কিছু সংখ্যক বিটিএস নিয়ে জটিলতার বিষয়টি গ্রামীণফোন বিটিআরসির সাথে সমাধান করেছে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার টাওয়ারের অনুমোদন পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করছে বাংলালিংক। এ প্রক্রিয়ার সময় কিছু সাইটের পর্যাপ্ত অনুমোদন নেই বলে পাওয়া যায় এবং বিটিআরসি জরিমানা করে।

“এ জরিমানার বিষয়টি হতাশাজনক। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় বিটিআরসির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছি। পেমেন্টের পর বিটিআরসি নিশ্চিত করেছে যে, বাংলালিংকের সীমান্তের সব সাইটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”