সাড়ে ৭১ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন ও সরকারি পরিসংখ্যানের গুণগত মানোন্নয়নের দুই প্রকল্পে সাড়ে ৭১ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলাদা দুটি ঋণচুক্তি হয়েছে।

ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান চুক্তিতে সই করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আসিফ উজ জামান।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে শফিকুল আযম বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সব শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ৭০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়াও সময়মতো ও মানসম্মত পরিসংখ্যান নীতিনির্ধারণে বিবিএসের গুণগত মানোন্নয়নে সংস্থাটি দেড় কোটি ডলার ঋণ দেবে।

চিমিয়াও ফান বলেন, বিশ্বব্যাংক ১৯৯৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করে আসছে, যা সব শিশুর প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়েছে। উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নজর দেওয়ার মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের সংখ্যাসাম্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়গুলো যুক্ত রয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, পিইডিপি-৪ এর আওতায় কারিকুলাম উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক ও প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষা গ্র্রহণ ও মূল্যায়ন এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কর্মসূচিটির জন্য আইডিএ ঋণের অর্থ ৬ বছরের রেয়াতসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।