মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে সততা

সততা মানব চরিত্রের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। মানব জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ গুণ যার মাঝে আছে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। সত্যিকার মুমিন সততাকে চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য থেকে ঊর্ধ্বে মনে করেন। কেননা তারা জানেন, এটি ইমান ও ইসলামের পূর্ণতা দান করে।

সততা ও বিশ্বস্ততার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত-সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গী হও।’ –সূরা আত তওবা: ১১৯

অনেক স‍ৎ গুণের বৈশিষ্ঠ সততা। অসংখ্য হাদিসেও সততার গভীরতার বিষয়টি ফুটে ওঠেছে। এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সততা সঙ্গে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় পৌঁছাবে…. যদিও সে বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।’ –সহিহ মুসলিম

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সততা আন্তরিকতার সঙ্গে শাহাদত লাভ করতে চায়, শহীদ না হলেও শহীদের র্মযাদা ও সওয়াব দেয়া হবে।’ –সহিহ মুসলিম

উল্লেখিত হাদিসের আলোকে প্রমাণিত হয়, সিদ্দিক তথা সততা বলতে আন্তরিক বিশ্বাস এবং মনের ঐকান্তিকতার সঙ্গে সেই বিশ্বাসের স্বীকৃতি বুঝায়। আর বান্দা তার সব আমল বা কাজের প্রতিফল একমাত্র আল্লাহর কাছে আশা করে।

আল্লাহতায়ালার সর্বাগ্রে বিচার্য বিষয় হচ্ছে, বান্দার আন্তরিকতা নিয়্যতের বিশুদ্ধতা। এর ভিত্তিতে আল্লাহতায়ালা বান্দাকে পুরস্কৃত করবেন। অতএব বান্দাকে সদা-সর্বদা কথা-কাজে সততা, সত্যতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে এবং মিথ্যার অভিশাপ, গ্লানি থেকে বাঁচাতে হবে।

এ বিষয়ে হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের উচিত সততা ও সত্যতা অবলন্বন করা। কেননা সততা ও সত্যতা মানুষকে পুণ্যের পথে পরিচালিত করে আর পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি যখন সত্য কথা বলে এবং সততা ও সত্যতার গুণ বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। তখন আল্লাহর কাছে সত্যবাদী সিদ্দিক হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাক। নিঃসন্দেহে মিথ্যা পাপের দিকে চালিত করে। পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। ব্যক্তি যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যায় মনোনিবেশ করে তখন তার নাম আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’

অতএব, প্রকৃতিগতভাবেই সত্য ও সত্যবাদী হবে এবং কখনোই মিথ্যাবাদী হবে না- এটা পাপ, অন্যায় অপরাধের মূল উৎস। মিথ্যার চর্চা ও প্রচলনের ফলে মুসলিম সমাজে নেফাক, খেয়ানত ও প্রতারণার মতো নৈতিক অধঃপতন ও বিকৃতি দেখা দেয়।

পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহর নেয়ামতপ্রাপ্ত বান্দার মধ্যে সিদ্দিকীন বা সাদেকীনদের কথা নবীদের পর পর উল্লেখ করা হয়েছে। সাদেকীনদের পক্ষে উন্নতি হওয়ার লক্ষ্যে প্রত্যেক মুমিনেরই চেষ্টা-সাধনায় ব্রতি হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হচ্ছেন সর্বোত্তম আর্দশ ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নবুওয়ত লাভের অনেক আগেই তার সততা ও বিশ্বস্ততার সুনাম সুখ্যাতি কিংবদন্তীর মতো চার দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে তৎকালীন সব মানুষ তাকে পরম বিশ্বস্ত সত্যবাদী উপাধিতে ভূষিত করে ছিল। তিনি প্রতিটি কাজে সততা, সত্যতা ও বিশ্বস্ততা রক্ষা করতেন। এমনকি তার রসিকতাও ছিল সত্য নির্ভর।

মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে সততা। প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য, জীবনে সততা ও বিশ্বস্ততার ফসল আহরণে যত্নবান হওয়া কেননা সততা ও সত্যবাদিতা আখলাকে হাসানের অন্যরকম বৈশিষ্ট্য। যার মধ্যে এ গুণের সমাহার থাকবে সমাজের সব ধরনের লোকভক্তি শ্রদ্ধা করবে। সর্বোপরি আখেরাতে আল্লাহর কাছে এর বিনিময় লাভ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের সততা গুণে গুণান্বিত হওয়া উচিত।

 

 

 

তথ্যসূত্র:BangladeshOnline24